উচ্চ রক্তচাপ এখন শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। বর্তমানে এটি তরুণদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। ব্যস্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব আর ফাস্ট ফুডের মত খাবারের অভ্যাস, সব মিলিয়ে রক্তচাপের পরিমান নীরবে বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে বুঝতেই পারেন না আপনার শরীরে নিরব ঘাতক কাজ করছে। ফলে এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক কিংবা কিডনি সমস্যার মতো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে আপনি চইলে প্রতিদিন প্রাকৃতিকভাবেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এই লেখায় আমরা জানবো উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
উচ্চ রক্তচাপ কি
মানুষের রক্ত চলাচল এর স্বাভাবিক পরিমাণ রয়েছে। এই পরিমাণ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় তখন একে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার তখনই হয়, যখন রক্তনালির মধ্যে দিয়ে চলাচল করার সময় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তচাপ হওয়া উচিত ১২০/৮০ mmHg। এর চেয়ে বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা যায়। এই চাপ নিয়মিত বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র, কিডনি, চোখ এমনকি মস্তিষ্কের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে হলে আগে জানতে হবে কেন এটা বাড়ে। মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার, বেশি লবণ খাওয়া, ঘুম ঠিকমতো না হওয়া, ধূমপান করা আর ব্যায়াম না করার মতো অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে রক্তচাপ বাড়ায়। তাই রক্তচাপ কমাতে হলে প্রথমেই নিজের জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
সবার আগে খাবারের দিকে নজর দিন। খাবারে লবণ কম খাওয়া খুব জরুরি। কারণ লবণের মধ্যে থাকা সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। চেষ্টা করুন প্রতিদিনের খাবারে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ভাত বা রুটি জাতীয় খাবার, আর কম চর্বিযুক্ত আইটেম রাখতে।
প্রতিদিন অন্তত একবার রক্তচাপ মাপার অভ্যাস করুন। যদি রক্তচাপ বেশি দেখা যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যদি ওষুধ খাওয়ার দরকার হয় তাহলে কখনোই নিজে নিজে ওষুধ খাবেননা। ডাক্তারের পরামর্শেই চিকিৎসা শুরু করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সবসময় ওষুধের উপর নির্ভর করবেন না। এর জন্য মাঝে মাঝে রান্নাঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এমন কিছু ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলঃ
১.রসুন খাওয়া
রসুন শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন আপনার রক্তনালিকে শিথিল করে। যার ফলে উচ্চ ধীরে ধীরে রক্তচাপ কমে আসে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ কোয়া কাঁচা রসুন ভালোভাবে চিবিয়ে খাবেন। কয়েক মাস ব্যাবহারেই এর ফলাফল দেখতে পারবেন।
২.লেবু পানি পান করা
লেবুতে থাকা ভিটামিন “C” এবং পটাশিয়াম। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবু মিশিয়ে পান করুন। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপের সম্ভাবনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩.লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমানো
আমরা যে খাবার লবন খাই সেটি মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড। এই সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিদিন ৫ গ্রাম বা তার কম লবণ গ্রহণ করুন। রেডি মেইড খাবার বা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাদের জন্য এটি এক নম্বর সতর্কতা।
৪.বেশি করে পানি পান করা
শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। যার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি (২.৫–৩ লিটার) পান করুন। বিশেষ করে গরমের দিনে পানি বেশি পরিমাণে খেতে হবে।
৫.তেঁতুল ও মেথি বীজ
তেঁতুল ও মেথি দুটোই প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। তেঁতুলে থাকে পটাশিয়াম, আর মেথিতে থাকে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তেঁতুল ভিজিয়ে পানি তৈরি করে দিনে ১ বার খাবেন। আর মেথি শুকিয়ে গুঁড়ো করে সকালে পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর ( FAQs)
প্রশ্নঃ উচ্চ রক্তচাপ কি পুরোপুরি ভালো করা যায়?
উত্তরঃ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এটি পুরোপুরি সেরে যাওয়া কঠিন। তবে প্রাকৃতিকভাবেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
প্রশ্নঃ লেবু কি উচ্চ রক্তচাপে উপকারী?
উত্তরঃ হ্যাঁ, লেবু শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খালি পেটে খেলে বেশি ভালো কাজ করে।
প্রশ্নঃ তেঁতুল খেলে কি রক্তচাপ কমে?
উত্তরঃ তেঁতুলে পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে নিয়মিত খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রশ্নঃ কাঁচা রসুন খাওয়া কি কাজে লাগে?
উত্তরঃ রসুনের অ্যালিসিন রক্তনালী প্রসারিত করে রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়?
উত্তরঃ ডায়েট ও অন্যান্য পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্তচাপ দ্রুত কমে। হাঁটা ও যোগব্যায়াম খুব উপকারী।
আরও দেখুন: